ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। এই আসনের মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ৭০টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটারদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ডগ স্কোয়াডসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ৭০টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছয়টি মোবাইল টহল দল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দলের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর-১৩ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর থেকে এসআরবি-১৩ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগে, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ছয়টি মোবাইল টহল দল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল মাঠে থাকবে। পাশাপাশি নাশকতা বা বিস্ফোরকসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দলের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দিচ্ছে এসআরবি-১৩। নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা পাওয়া যাবে।
এ ছাড়াও নির্বাচনী নিরাপত্তার সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ে চালু করা হয়েছে অপারেশনস কন্ট্রোল রুম। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাহিনীটির।
সংবাদ সম্মেলনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি-১৩।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়।