জাপানের ব্যবসায়ী ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের শিল্প খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি প্রস্তুত করছিল, তখন থেকেই বন্ধুরাষ্ট্র জাপান পাশে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের এই দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্ককে এখন আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করার উপযুক্ত সময় এসেছে।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো) এবং দ্য জাপান–বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকনোমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বাণিজ্য ফোরামে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি ছিল শান্তিপ্রিয় জাপান। সেই সূচনা লগ্ন থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের এই বিশাল বাজারে মধ্যম বয়স মাত্র ২৭ বছর। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে এবং সচ্ছল মধ্যবিত্তের বিকাশে ২০৩৪ সালের মধ্যে বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। একইসঙ্গে ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্যও বাংলাদেশে বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে দেশের তরুণ প্রজন্মকে জাপানি ভাষা শেখানোর বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাপানি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের তাগিদ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকস সংবলিত 'বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক' প্রতিষ্ঠা এবং মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক ঢাকা। এছাড়া দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করতে দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক ও উচ্চগতির রেলব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যান ও অর্থায়নে জাপানের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন তিনি।