স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে অত্যন্ত মর্মান্তিক এক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। একই লাইনে চলা দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি ও পেছনের সজোরে এই সংঘর্ষের ফলে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্পেনের ট্রেন অপরারেটর এডিআইএফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা বিস্তারিত কোনো কিছু জানায়নি।
স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভিই জানিয়েছে, দুটি ট্রেন একই লাইনে চলছিল। এরমধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে করে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সান্তেজ বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় তিনি ‘অবাক’ হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা দিয়ে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ট্রেনে ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনাটি হয় মোরা এবং ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াতে যাচ্ছিল। জেসুস জেরোনিমো নামে ৫৪ বছর বয়সী এক যাত্রী বলেছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা ভেতর থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। তিনি বলেছেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই আমাদের ট্রেন একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন।”
এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় গোটা স্পেনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন। তবে একই লাইনে দুটি ট্রেন কীভাবে চলে এল, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও এএফপি