ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে মৃত্যু

পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:১৬ পিএম

কক্সবাজারের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো একই পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১০ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিতের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামে স্বজনদের অঝোর কান্না আর আহাজারির মধ্য দিয়ে মায়ের কবরের পাশেই পাশাপাশি দাফন করা হয় স্বামী, স্ত্রী ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে।


যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। নিহত চারজনের মরদেহ বুধবার সকাল ৭টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে বিকেল ৩টার দিকে বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একই সাথে চারজনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন- নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী (৩৬), মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানা (৩)।


নিহত নাহিদুর রহমানের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বলেন, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিখোঁজ ছিল। ওই দিনই রিসোর্টের একটি ওয়াশরুম থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো আমরা স্বজনদের বলে ধারণা করেছিলাম। তবে আগুনে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত হয়।


নাহিদুর রহমানের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১০ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


নিহত নাহিদুর রহমানের বাবা মতিয়ার রহমানের বয়স আশির বেশি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে নাহিদের কোলে মাথা রেখে মারা যান তিনি। এবার সেই মায়ের কবরের পাশেই পাশাপাশি দাফন করা হলো নাহিদ, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। চারটি কবর আগে থেকেই খোঁড়া হয়েছিল। চারজনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেন প্রতিবেশীরাও।


এ সম্পর্কিত আরো খবর