সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ দয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অনিয়ম ও পোস্টাল ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
আজ শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন আমজনতার দলের শীর্ষ নেতা মো. তারেক রহমান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কেবল গালিগালাজ আর চরিত্রহনন করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে চায় দলটি। দেশের সাধারণ জনগণ তাদের এই গালিগালাজ কিংবা কটু বাক্য সমর্থন করে কি না, তা অনুধাবন করতে ঠাকুরগাঁওয়ের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলের দিকে চোখ বুলালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি একটি গুরুত্ববহ প্রশ্ন তোলেন—সাধারণ মানুষ কি নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে, নাকি সমাজে চরম অসহিষ্ণু ও উগ্র মনোভাব পোষণকারী কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে?
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা মূলত সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ অনুকম্পা ও দয়ায় পাশ করে সংসদের বিরোধী দল হতে পেরেছিল। মূলত পোস্টাল ভোটের ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির ওপর ভর করেই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলামকে নির্বাচনে বিজয়ী করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আমজনতার দলের এই নেতা নির্বাচনী মাঠের অন্যান্য অনিয়মের বিবরণ তুলে ধরে আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে নির্বাচন করানো জামায়াতের আরেকটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কারসাজি বা কুচক্র ছিল।
তিনি বলেন, অর্থ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মূল ভোট ভাগ করে সাধারণ জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও মতামতকে তারা সম্পূর্ণ পরাজিত করেছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকে প্রকৃত ও যোগ্য জনপ্রতিনিধির সঠিক নেতৃত্ব পাওয়া থেকে চরমভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়াও তিনি নির্দিষ্ট এলাকায় নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে আনতে অন্য এলাকা থেকে ভোটার স্থানান্তর করে ভোট ম্যানিপুলেট বা জালিয়াতি করার গুরুতর অভিযোগ আনেন। তার মতে, এইভাবে সাধারণ ও প্রকৃত ভোটারদের প্রকৃত গণদাবিকে পরাজিত করে তারা সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার বা হক নষ্ট করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ টেনে আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান জামায়াতের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা নিয়ে শেষ প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনী ময়দানে এসব নানামুখী ম্যানিপুলেশন, অর্থপ্রভাব এবং গালিগালাজের রাজনীতি বাদ দিলে এই দলটি বাস্তবে কয়টি আসনে জয়লাভ করার সক্ষমতা রাখত?