ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হলো যে, জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত ‘জান্নাতের টিকিট’ রাজনৈতিক ময়দানে আর কোনো কাজে দেবে না।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক ও কৌশলগত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান রাশেদ খান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আবারও প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কোনো কাজে দেবে না। বিজয়ী জাতীয় সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীনকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন।’
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নীতি-নৈতিকতা ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান নিজের পোস্টে আরও লেখেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন পুরোপুরি বুঝে গেছে যে, জামায়াতের ভেতরে ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম লুকিয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত যে রাজনৈতিক দলের অসংখ্য দায়িত্বশীল নেতার নৈতিক অবক্ষয় ও পরকীয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যে দল পবিত্র রোজা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজাকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে বিবেচনা করে এবং যে রাজনৈতিক দলটি ধারণা করে যে আগে হিন্দু সম্প্রদায় মানেই ছিল নৌকা, আর এখন হবে হিন্দু মানেই দাঁড়িপাল্লা—তাদের আসল রূপ জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে।
তিনি আরও লেখেন, যে দলের আইনজীবী আদালতে গিয়ে বুয়েটের শহীদ আবরার ফাহাদের নির্মম খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয় এবং যে দলটি প্রকাশ্যে সকালবেলা ভারতের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে রাতের আঁধারে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়, তারা কখনোই সাধারণ মানুষকে সঠিক আদর্শের শিক্ষা দিতে পারে না। যে দলটি নিজেদের নেতাকর্মীদেরই সঠিক পথ দেখাতে ব্যর্থ ও হিমশিম খাচ্ছে, তারা সাধারণ জনগণকে কীভাবে হেদায়েত ও সুপথের দিশা দেবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি ও আদর্শ নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, ইসলামি আদর্শ নিয়ে জামায়াতের এসব বহুমুখী অবস্থান ও ভণ্ডামি দেখে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সম্মানীয় খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াত সম্পর্কে সঠিক মন্তব্য করেছেন যে, যারা জামায়াতে ইসলামীতে নতুন করে যোগদান করবে, তারা মূলত পথভ্রষ্ট হবে। সুতরাং, এই পথভ্রষ্ট জামায়াতের দেখানো কাল্পনিক জান্নাতের পথ ধরে হেঁটে জনগণ আর বিভ্রান্তিকর পথে পা বাড়াতে আগ্রহী হবে না।
রাশেদ খান নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরও মন্তব্য করেন, ওয়াজের ময়দানে বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে আমির হামজা কিংবা তারেক মনোয়ারের মতো পরিচিত বক্তাদের নামিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে নিজ দলের কট্টর নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে; কিন্তু সাধারণ জনগণের কাছে জামায়াতকে আর কখনোই খাঁটি ইসলামিক রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। যারা বারবার বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে নীতি পরিবর্তন করে বলে যে—‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’—সেই দলকে আর যাই হোক, প্রকৃত ইসলামিক দল বলা চলে না বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।