ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর কাল প্রকাশ হবে এইচএসসি রেজাল্ট, অনলাইনে জানবেন যেভাবে শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ ভারতে ছয় আরোহীসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু তাহসিফ হত্যা রহস্য: দীপের এলোমেলো বক্তব্যে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করল পুলিশ সাইকেলে ১৯১ দেশ ভ্রমণ: সোমেন দেবনাথের অনন্য কীর্তি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইক উদ্ধার ও দীপের তথ্যে তাহসিফ মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়

ঝুঁকিতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:২৩ পিএম

বন ও ভূমির অনিয়ন্ত্রিত আগুন এবং দীর্ঘমেয়াদি দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট চরম বায়ুদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্যে এক মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির ভয়াবহ পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে শুধু গত সেপ্টেম্বর মাসেই বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতায় প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে এই বিপজ্জনক সময়ে দেশটির প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুর মধ্যে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে হেলসিংকিভিত্তিক খ্যাতনামা গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ)-এর প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


গবেষণা সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমি ও জমিতে ধারাবাহিকভাবে আগুন লাগার ফলে দেশটির সামগ্রিক বায়ুমানের ব্যাপক ও মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এর সরাসরি পরিণতি হিসেবে কেবল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই বায়ুদূষণের কারণে আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৬০ জনে গিয়ে ঠেকেছে, যা তার আগের মাস অর্থাৎ আগস্ট মাসের তুলনামূলক মৃত্যুর হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।


সিআরইএর এই গবেষণায় মূলত ‘পিএম ২.৫’ (PM 2.5) নামক অতিক্ষুদ্র এবং অত্যন্ত বিষাক্ত বায়ুদূষণকারী কণার স্বল্পমেয়াদি সংস্পর্শে আসার ফলে মানুষের শরীরের ওপর যে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বাতাসে ভাসমান এই দূষিত কণাগুলো মানুষের ফুসফুস ও রক্তে প্রবেশ করার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মানুষের অকালমৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।


প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দাবানলের ধোঁয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের আওতাধীন অঞ্চলে। এ ছাড়া দেশটির জনবহুল জাভা দ্বীপ, সুমাত্রা দ্বীপ এবং পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও বায়ুদূষণের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে।


পরিবেশ গবেষকেরা শুধু দাবানলের ধোঁয়াই নয়, এর পাশাপাশি দেশের বড় বড় শহর ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া এবং অন্যান্য দূষণমূলক উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। সেই বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে যে, দাবানলের বাইরে সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও শহরের এই সমস্ত উৎসের কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণে আরও অন্তত ১ হাজার ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।


দাবানল ও শিল্পকারখানার দূষণ—এই দুই উৎস মিলে কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুদূষণজনিত মোট মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা ৫ হাজার ৩১০ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার বিশাল এই দ্বীপরাষ্ট্রে লাগাতার দাবানল এবং শিল্পকারখানার নিয়ন্ত্রনহীন দূষণ সাধারণ মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বর্তমানে এক ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে গবেষকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন। (সূত্র: আরব নিউজ)


এ সম্পর্কিত আরো খবর