ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর কাল প্রকাশ হবে এইচএসসি রেজাল্ট, অনলাইনে জানবেন যেভাবে শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ ভারতে ছয় আরোহীসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু তাহসিফ হত্যা রহস্য: দীপের এলোমেলো বক্তব্যে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করল পুলিশ সাইকেলে ১৯১ দেশ ভ্রমণ: সোমেন দেবনাথের অনন্য কীর্তি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইক উদ্ধার ও দীপের তথ্যে তাহসিফ মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়

হ্যালোইন উৎসবে সহিংসতার আশঙ্কা

শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:০৯ পিএম

ধারাবাহিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফ্রান্সে আগামীকাল শনিবার পুনরায় বৃহৎ আকারের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠন। হ্যালোইন উদযাপনের সঙ্গে একই দিনে সময়সূচি মিলে যাওয়ায় এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের সহিংসতা, চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ব্যাপক লুটপাটের মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোর হস্তে সামাল দিতে এবং দেশজুড়ে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার একযোগে ৭০ হাজার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। ফরাসি প্রভাবশালী সম্প্রচারমাধ্যম টিএফ১-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের এই বিশাল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাটি মূলত বিগত ২৪ অক্টোবরের পূর্ববর্তী নিরাপত্তার আদলেই গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের প্রতিটি প্রধান শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত বিক্ষোভ বা গণজায়েতের ওপর অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ এক বিবৃতিতে চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, শনিবার দেশটির জন্য একটি অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ ও ঝুঁকিপূর্ণ দিন হতে পারে। কারণ এই দিনে দেশের সার্বিক ‘জনশৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীরা তাদের গণবিক্ষোভ কর্মসূচী গভীর রাত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করায় রাতভর নৈরাজ্যের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীরা শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টে একযোগে বিশাল জমায়েত হওয়ার যে উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছে, সেটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বিশেষভাবে সহিংস’ চাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে জানান, “রাতে এই ধরনের যেকোনো অননুমোদিত জমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্য করে যদি এই ধরনের কোনো কর্মসূচি আয়োজন করার চেষ্টা করা হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে তা বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেবে এবং এতে জড়িতদের ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হবে।”


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৭ অক্টোবরের কর্মসূচীতে বিক্ষোভকারীদের একাংশ দেশজুড়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোতে যেকোনো ধরনের সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিশেষ দাপ্তরিক আদেশ জারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের প্রবেশপথগুলোতে পুলিশি নজরদারি ও চেকপোস্টে তল্লাশি অভিযান কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।


সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নুনেজ পরিষ্কার বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা দেশের কোথাও বিন্দুমাত্র বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা সহ্য করব না। নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতার সাথে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”


তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বানুমতি প্রাপ্ত বৈধ আন্দোলনগুলোর ক্ষেত্রে নাগরিকদের সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের সাংবিধানিক স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৭ ও ২৪ অক্টোবরের ধারাবাহিক উত্তাল কর্মসূচির পর পরিকল্পিত এই প্রতিবাদটি ফ্রান্সে টানা তৃতীয় শনিবারের মতো দেশব্যাপী প্রধান বিক্ষোভ হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে। সূত্র: টিএফ১



এ সম্পর্কিত আরো খবর