ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর কাল প্রকাশ হবে এইচএসসি রেজাল্ট, অনলাইনে জানবেন যেভাবে শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ ভারতে ছয় আরোহীসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু তাহসিফ হত্যা রহস্য: দীপের এলোমেলো বক্তব্যে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করল পুলিশ সাইকেলে ১৯১ দেশ ভ্রমণ: সোমেন দেবনাথের অনন্য কীর্তি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইক উদ্ধার ও দীপের তথ্যে তাহসিফ মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়

ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:০৫ পিএম

২০২৬ সালের ইসরায়েল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক। দেশটির সার্বিক রাজনৈতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও রাজনীতির জটিল সমীকরণের কারণে বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও গভীর অচলাবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই ফলাফলকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি ধাক্কা মনে হলেও, ক্ষমতার চালচিত্রে এই বিভাজন ও অচলাবস্থা তাঁর রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াইয়ে এক বড় ধরনের আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে।

 

ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে (নেসেট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন একক বা জোটগতভাবে অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ‘লিকুদ’ নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং স্বতন্ত্র আরব দলগুলো একযোগে জয়ী হয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসনে। বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহু জোটের আসন সংখ্যা ৬৮টি থাকলেও এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাসত্ত্বেও কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কেবলই নেতানিয়াহুর পুনর্বাসন দৃশ্যমান হচ্ছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে আইনগতভাবে যে ১২ সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়, তা যদি ব্যর্থতায় রূপ নেয় এবং নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যায়—তবে সেই পুরো সময়টিতে নেতানিয়াহুই দেশের ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী’ (Caretaker Prime Minister) হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকার সময় তিনি কূটনৈতিক কার্যক্রম চালানো কিংবা সামরিক ও যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ আইনি কর্তৃত্ব ভোগ করতে পারবেন।

 

একই সঙ্গে, বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও শর্তাবলি নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরও সুরক্ষিত করেছে। বিরোধী জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য যদি আরব দলগুলোর (যেমন: 'রা'আম' ও 'জয়েন্ট লিস্ট') ওপর নির্ভর করতে চান, তবে তাঁর নিজেদের জোটের কট্টরপন্থী দলগুলো (যেমন নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ ও আভিগদোর লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল আওয়ার হোম’) সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে। নির্বাচনী প্রচারণায় আইজেনকোট যে কড়া চার দফা শর্ত দিয়েছিলেন (যার মধ্যে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ও হামাসকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত), তা আরব দলগুলোর মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে বিরোধী জোটের পক্ষে কোনো কার্যকরী বিকল্প জোট গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

অন্যদিকে, যদি কোনো কারণে ইসরায়েলকে পুনরায় দ্রুততম সময়ে আরেকটি সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়, তবে সেটিতেও রাজনৈতিক মুনাফা কুড়াবেন নেতানিয়াহু। পুনরায় ভোট হলে বিদেশে বসবাসরত প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলিদের আকাশপথে এসে ভোট দেওয়ার হার ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে, যা মূলত বিরোধীদের ক্ষতি করবে। একই সঙ্গে আরব ভোটারদের মধ্যে হতাশা কাজ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ডানপন্থী ভোটারদের আরও বেশি সংঘবদ্ধ করবে এবং নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পথকে চিরস্থায়ী ভিত্তি দিতে পারে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই ঝুলন্ত ফলাফল সরাসরি একক বিজয় না দিলেও কৌশলী রাজনীতিবিদ নেতানিয়াহুকেই গদিতে টিকিয়ে রাখার নতুন রাজপথ তৈরি করে দিচ্ছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর