নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মোছলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া কলেজে চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১.১১ শতাংশে। টানা দুই বছর সম্পূর্ণ শূন্য পাসের পর এবার একজন উত্তীর্ণ হওয়ায় দীর্ঘ দিন পর পাসের মুখ দেখল কলেজটি। তবে ১৬ জন কর্মরত শিক্ষক থাকার পরও ৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই ফেল করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এই হতাশাজনক চিত্র সামনে আসে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে রায়পুরা উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের বেগমাবাদ তালুককান্দি গ্রামে মোছলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটির ফলাফলের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া সকল পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলায় এ বছর মোট ১১টি কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন, যেখানে গড় পাসের হার ৫৪.৮৬ শতাংশ। এছাড়া উপজেলার ৫টি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় ১১৭ জনের মধ্যে ৬৭ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৫৭.৮৬%) এবং ভোকেশনাল শাখা থেকে ৮৭ জনের মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অথচ সার্বিক এই ফলের বিপরীতে ১৬ জন শিক্ষকের এই বিশেষ কলেজের ফল বিপর্যয় মারাত্মক ধস নামিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে পড়াশোনার ন্যূনতম পরিবেশ অনুপস্থিত। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত না এসে টিকটক, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় অপচয় করে থাকে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রিটন মিয়া বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যায় এবং বাকিদের অনেকেই ক্লাসে নিয়মিত আসে না। কোচিং করিয়ে ৯ জনকেই পাসের উপযোগী মনে করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ জন ছাড়া সবাই ফেল করেছে।’ রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, ফলাফলের সার্বিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে, বোর্ডই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।