মার্কিন রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার মুহূর্ত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকালের ভাগ্য ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লক্ষ্যে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাইরে এই মিডটার্ম ইলেকশন মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক মহা পরীক্ষার সমতুল্য, যেখানে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা সর্বশক্তি দিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি চার বছর পর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তার ঠিক মাঝপথে অর্থাৎ দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত নির্ধারিত হয় ওয়াশিংটনের আইনসভা বা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আগামী দুই বছর কোন দলের হাতে থাকবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) মোট ৪৩৫টি আসন, ১০০ সদস্যের সিনেটের মধ্যে ৩৫টি আসন এবং গুরুত্বপূর্ণ ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের এই নির্বাচনে মূল লড়াইটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে। কংগ্রেসের দুটি কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা লড়ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন অন্তত চারটি করে অতিরিক্ত আসনের নিট সুবিধা। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জাদুকরি সংখ্যা হলো ২১৮টি আসন এবং সিনেটে প্রয়োজন অন্তত ৫১টি আসন (যদিও ৫০-৫০ সমতা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাস্টিং ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে)। নির্বাচনের আগে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই লড়াই আরও বেশি জমে উঠেছে।
নির্বাচনে যদি রিপাবলিকানরা হেরে যায়, তবে কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে? উত্তর হলো—না। ট্রাম্পের বর্তমান ৪ বছরের মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে, ফলে সরাসরি ক্ষমতা হারানোর কোনো ঝুঁকি তাঁর নেই। তবে ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে সক্ষম হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তলবের অবাধ ক্ষমতা চলে যাবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
তাছাড়া, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প তাঁর পছন্দমতো মন্ত্রিসভার সদস্য কিংবা ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বেন। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিললে তাঁরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াও শুরু করতে পারেন। যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে পুরোপুরি পদচ্যুত করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়, যা বেশ কঠিন। তবুও সামগ্রিক বিচারে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের পরাজয় ঘটলে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: রয়টার্স, এপি