তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ, লাগাতার বিক্ষোভ এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের সংকটের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকের নায্য মজুরি নিশ্চিত করার এই প্রথম বৈঠকটি তৈরি পোশাক শিল্পখাত ও এর লক্ষাধিক শ্রমিকের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক একটি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা পোশাক খাতে গত কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা চরম রূপ ধারণ করেছে। ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের ৫২৯টি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের শান্ত রাখা মালিকপক্ষের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর)। এর আগে গত রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা হলেও, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির বাজারে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে শ্রমিকরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।
শ্রমিকদের এই দাবির পাশাপাশি মালিকপক্ষও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সংকটের সমাধান আসবে। তিনি কারখানাগুলো সচল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের ভাঙচুর বা আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে শ্রমিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার দাবিও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আজকের এই প্রথম সভায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিকদের যৌক্তিক প্রত্যাশা এবং মালিকপক্ষের উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার ওপর কৌতূহলী দৃষ্টি রয়েছে পুরো দেশের।