দেশের পরিবহন খাত এবং সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে নতুন এই বর্ধিত মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
একই সাথে সংস্থাটি সাধারণ পরিবারের নিত্যব্যবহার্য ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও একলাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এখন থেকে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের গুণতে হবে ২ হাজার ৬০ টাকা। কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় পর্যালোচনা করে প্রতি মাসেই এই দাম সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
তবে কমিশন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার কাগজ কলমে যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, মাঠপর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা প্রায়শই তার চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করে থাকেন। ফলে নতুন করে এই দাম বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের মনে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অটোগ্যাস ও এলপিজি উভয় ক্ষেত্রেই বর্ধিত দাম কার্যকর হওয়ায় সাধারণ পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধিসহ সাধারণ পরিবারের মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।