ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬,  ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি: সোম ও বৃহস্পতিবার ঢুকতে পারবেন না দর্শনার্থীরা ফ্লোরিডার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হলেন রিপাবলিকান বায়রন সাভার ও গাজীপুরে ফের সড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল ছুড়ল পুলিশ জর্জিয়ায় ইতিহাস গড়ে বিজয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস গাজীপুরে পিটুনিতে আহত পোশাক শ্রমিকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নির্বাচনে হেরে গেলে কী হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের? মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন: ১৬ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও অর্থনীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট অধিকাংশ মার্কিন ভোটার শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আজ পোশাক খাতের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা

নিয়ম মেনে মজুরি সমন্বয়, পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান বিকেএমইএর


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৯ পিএম

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুনভাবে নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের শিল্পকারখানাগুলোর নিয়মিত উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি সচল রাখার তাগিদ দিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষস্থানীয় মালিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বোর্ডের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন স্থগিত রেখে সাধারণ শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, শ্রমজীবী মানুষের বেতন ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির স্পর্শকাতর বিষয়টি কোনো রাজপথের বিশৃঙ্খলা বা চরম আন্দোলনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সুষ্ঠু সমাধান হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যায্য চাওয়া-পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক বাজার প্রেক্ষাপটে আর্থিক সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে, তাও গভীরভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সাবেক সভাপতি এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক জানান, শ্রমিকদের যৌক্তিক বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি সর্বদাই নিয়মতান্ত্রিক আইন অনুযায়ী সমাধান হওয়া সমীচীন। এই উদ্দেশ্যে গঠিত মজুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনামূলক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্বে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নিয়ম অনুযায়ী মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান থাকলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই সময়সীমা কমাইয়ে ৩ বছর করা হয় এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৯ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। মালিকপক্ষ তৎকালীন চরম প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া সেই নির্দেশ মেনে নিয়েছিল। আগামী জানুয়ারিতে ওই তিন বছর পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের মিছিল বা নৈরাজ্যের মাধ্যমে নয়, বরং সরকার গঠিত বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপরই সবার পূর্ণ আস্থা রাখা প্রয়োজন।


শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং উত্তরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের স্বার্থে সবাইকে চরম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কেবল একতরফা বেতন বাড়ানোর দাবি করলেই হবে না, বরং মালিকপক্ষের সেই বর্ধিত ব্যয় বহন করার মতো ব্যবসায়িক সামর্থ্য আছে কি না, তা অনুধাবন করা জরুরি। অন্যদিকে বিকেএমইএর বর্তমান নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের কাজ শুরু হওয়ার পরও কেন এমন আন্দোলন হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সব পক্ষের সাথে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান বের করতে হবে। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ চান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর