ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার: আরএসএফ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:৪৩ পিএম

দেশে দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে সড়ক দুর্ঘটনা, যার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আকস্মিক প্রাণহানি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক তথ্য। গত ছয় বছর ১০ মাসের দীর্ঘ পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনায় প্রায় তিনশটি সম্পূর্ণ পরিবার চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর এই মিছিলে ভারী হয়েছে দেশের বাতাস।


রোববার (৮ নভেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) পক্ষ থেকে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ৯টি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে সংগঠনটি।


আরএসএফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পরিবারের সদস্যদের একত্রে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি, লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, চালকদের মারাত্মক অদক্ষতা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বেপরোয়া মানসিকতাই এসব মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধরনের পারিবারিক প্রাণহানির একটি বিশাল অংশ ঘটে চলেছে কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মাধ্যমে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৩টি পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন, যেখানে মোট ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাবা ও সন্তান একত্রে জড়িত ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৮ জন।


অটোরিকশার ক্ষেত্রে চিত্র আরও বেশি ভয়াবহ। অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৫২৫টি, যাতে মোট ১ হাজার ৭২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে এককভাবে ২১১১টি দুর্ঘটনায় দুজন, ১১৮টিতে তিনজন, ৯২টিতে চারজন, ৫৩টিতে পাঁচজন, ৩৮টিতে ছয়জন এবং ১৩টি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন সদস্য পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। একইভাবে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ১৮৬টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন। যার মধ্যে ৪৮টিতে দুজন, ৪৬টিতে তিনজন, ৩৯টিতে চারজন, ২৮টিতে পাঁচজন, ২০টিতে ছয়জন, চারটিতে ১১ জন এবং একটিমাত্র মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন সদস্য নিহত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।


ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ১০৮টি ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪টিতে দুজন, ৩১টিতে তিনজন, ২৪টিতে চারজন এবং ১৯টিতে পাঁচজন সদস্য প্রাণ হারান। অন্যদিকে, রোগীর জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা অ্যাম্বুলেন্সের ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি ৩২টি বাস দুর্ঘটনায় বিভিন্ন পরিবারের ৮৫ জন সদস্য এবং একটি পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।


এই ধরনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাগুলো স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর সুপারিশ পেশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হেলমেট নিশ্চিত করা, কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন পরিচালনা, মহাসড়কে দ্রুত গতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ। এছাড়া গ্রামীণ ছোট রাস্তাগুলো যাতে সরাসরি মূল মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে জন্য নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক নকশা প্রণয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে সংগঠনটি। সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতা বাড়ানোর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর