ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৪৭ পিএম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার খুচরা বাজারে যখন কৃষকদের সার কেনার জন্য হাহাকার পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে নৌপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকার ভর্তুকির সার। অসাধু ডিলার ও চোরাকারবারিদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অতিরিক্ত দাম দিয়েও স্থানীয় খেটে খাওয়া কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২২টি ইউনিয়নে মোট ২২ জন নিবন্ধিত ডিলার রয়েছে। সরকারি ডিও বা ডেলিভারি অর্ডার লেটারের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রত্যেক ডিলারের নামে ২২ টন করে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার বরাদ্দ থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, এই সার ডিলারদের পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছে বিক্রি করার কথা। তবে অনুসন্ধানে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, মূল কারসাজিটি ঘটছে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়নগুলোতে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, মূল ভূখণ্ডের চেয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকার ইউনিয়নগুলোতে কৃষকের সংখ্যা এবং চাষযোগ্য জমির পরিমাণ অনেক কম। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সেসব ইউনিয়নের ডিলাররাও প্রতি মাসে সমপরিমাণ অর্থাৎ ২২ টন করে সার বরাদ্দ পাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে সারের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন অসাধু ডিলাররা। তারা মাস শেষে অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত সার স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে, অধিক মুনাফার লোভে সরাসরি চোরাকারবারিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।


স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের জোরালো অভিযোগ, ডিলাররা প্রথমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। এরপর সাধারণ কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত চড়া দামে সার বিক্রি করেন। আর মাস শেষে উদ্বৃত্ত থাকা সার গোপন সূত্রে চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। চোরাকারবারিরা গভীর রাতে ট্রলারে করে এসব সার নদী ও সমুদ্রপথে সরাসরি মিয়ানমারে পাচার করে দিচ্ছে। ক্ষুব্ধ কৃষকদের মতে, সার বাইরে পাচার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে অন্তত দেশের কৃষকরা উপকৃত হতেন।


সার পাচারের এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চর কুকরিমুকরির সার ডিলার ও মেসার্স জাকির ট্রেডার্সের মালিক মো. জাকির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ডিলারশিপের আওতায় নিয়ম মেনেই কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে।


এদিকে, গত বুধবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন তেঁতুলিয়া নদী থেকে ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ডের চরমনিকা দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। এ সময় আটক করা হয় আটজনকে। এর আগে গত ১২ আগস্ট বেতুয়া নতুন ফিশারি ঘাট এলাকা থেকে ২৯৩ বস্তা সার জব্দ করে পুলিশ। এছাড়া ২৩ আগস্ট চর কচ্ছপিয়া ঘাটে ট্রলারসহ ১৭৫ বস্তা সার আটক করেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। চোরাকারবারীরা সার পাচারের পাশাপাশি ফেরার পথে ট্রলারে করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের চালান নিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, সার পাচারে ব্যবহৃত ট্রলার ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর