ঝালকাঠি প্রতিনিধি
সমবায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যয়ে ঝালকাঠির নলছিটিতে নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নলছিটি উপজেলা হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস. এম. মাহাফুজ হুসাইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটির উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতীক কুমার কুন্ডু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুর রহমান (হেলাল), নলছিটি প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন (মনু), মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল সালাম হাওলাদার, নলছিটি উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মোসা. নাজমা কলি, ইসলামি আন্দোলন নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হেসেন জিহাদী, কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিক মোল্লা এবং নলছিটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার।
প্রভাষক মো. আমির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সমবায় বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভা। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে আলোচনা সভায় সমবায় আন্দোলনের গুরুত্ব ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমবায় কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
তাঁরা আরও বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হলো ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এসব নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতেও সমবায় সমিতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এ সময় বক্তারা সমবায় সমিতিগুলোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, সমবায়ের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সমবায় কার্যক্রমে অধিকসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
‘সমবায়ে গড়ব দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নলছিটিতে সমবায় আন্দোলনের আদর্শ, ঐক্য ও সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।