ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

তাড়াশে কালীপূজা উপলক্ষে পাঠার মাংস বিক্রির ধূম


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৪৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু , সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন শ্যামা পূজা বা কালীপূজা উপলক্ষে পৌর বাজার এলাকায় জমে উঠেছে পাঠার মাংসের জমজমাট হাট। পূজা উপলক্ষে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোতে কেজি দরে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে পাঠার মাংস। ঐতিহ্যবাহী এই পূজার আনন্দ উপভোগ করতে এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক রেওয়াজ ধরে রাখতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শখের বশে বিভিন্ন বয়সের অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের লোককেও এই মাংস কিনতে ভিড় করতে দেখা গেছে।


রোববার (৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সনাতন ধর্মীয় প্রথাগত ও শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী পাঠাবলির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই পূজা। কালীপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে তাড়াশ পৌর বাজারে ৮ থেকে ১০টি অস্থায়ী মাংসের দোকান বসেছে, যারা কেবল এই বিশেষ দিনটিতেই পাঠার মাংস বিক্রি করে থাকেন। এদের মধ্যে সবাই পেশাদার মাংস বিক্রেতা নন, কেউ কেউ পার্টটাইম বা মৌসুমী বিক্রেতা হিসেবে নির্দিষ্ট উৎসবের সময়েই এই ব্যবসা পরিচালনা করেন।


পৌর এলাকার মাংস বিক্রেতা আপেল মাহমুদ জানান, কালীপূজা উপলক্ষে আজ পৌর বাজারে মোট ১০টি অস্থায়ী দোকান বসেছে এবং দোকানগুলোতে আজ সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পাঠার মাংস বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। সাধারণত ছাগলের পাঠার মাংসের চাহিদাই বেশি থাকে, তবে এর পাশাপাশি ভেড়ার পাঠার মাংসও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।


এদিকে বাজারে মাংস কিনতে আসা পৌর সদরের বাসিন্দা সুকুমার বলেন, প্রতি বছর মহাসমারোহে কালীপূজা উপলক্ষে এভাবেই স্থানীয় বাজার এলাকায় পাঠার মাংস বিক্রির ধুম পড়ে। প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবারের জন্য মাংস কিনতে বাজারে এসেছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মাংসের দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে, প্রতি কেজি মাংসের জন্য ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।


মাংসের এই বাড়তি দামের বিষয়ে বিক্রেতা মফিজ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাইকারি বাজারে পাঠার দাম অনেক বেশি থাকায় আমাদের বাধ্য হয়েই একটু বেশি দামে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম বেশি হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে পাঠার মাংসের চাহিদা বেশ ভালো রয়েছে। এ বছর প্রতি কেজি মাংস ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।


তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল জানান, কালীপূজা অত্যন্ত প্রাচীন একটি পূজা, যার প্রচলন সত্যযুগ বা সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে চলে আসছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাড়াশের ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নেই অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে কালীপূজা উদযাপিত হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর মূল সনাতনী ভক্তির স্থান ও প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে তাড়াশ মহাশ্মশানে বার্ষিক এই কালীপূজাটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।


কালীপূজায় পাঠার মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাস সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় রীতিনীতিতে পাঠার মাংস খাওয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা নেই। এটি মূলত একটি আঞ্চলিক ও প্রাচীন রেওয়াজ, যা জমিদার আমল থেকেই এই অঞ্চলে চলে আসছে। স্থানীয় প্রবীণদের মুখে প্রচলিত আছে যে, এই বিশেষ দিনে পাঠার মাংস খেলে শরীরে বাত বা বাত-ব্যথার উপশম হয়। আর এই লোকবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অত্র অঞ্চলের সব মানুষ উৎসাহের সাথে পাঠার মাংস খেয়ে থাকেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর