ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:১৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সিদ্দিক ফকির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কয়েক মাস আগে প্রশাসনের নির্দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ ও স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথা থাকলেও সম্প্রতি আবারও সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘাবাড়ি দক্ষিণ পাড়ে বিশ্বরোড থেকে প্রায় ১০০ ফুট পূর্ব দিকে, সিমেন্ট কারখানার পাওয়ার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। সিদ্দিক ফকির নামের ওই ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনেও সেখানে মার্কেট নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক মাস আগে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ চলার সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশনাও দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের সেই নির্দেশনার পরও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি হঠাৎ করেই আবার নির্মাণকাজ শুরু করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশনার পরও কীভাবে একই জায়গায় আবার নির্মাণকাজ শুরু হলো? সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকারি জায়গা দখল করে এভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্যরাও একইভাবে সরকারি সম্পত্তি দখলে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে একদিকে যেমন সরকারি জমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, অন্যদিকে এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তাঁরা মনে করেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা ও পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

এলাকাবাসী আরও জানান, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। জমির প্রকৃত মালিকানা, জায়গাটির ব্যবহারসংক্রান্ত নথিপত্র এবং নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, বিষয়টি শুধু অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হোক। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দখল প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা ‍ৃ


এ সম্পর্কিত আরো খবর