স্ত্রী রিয়া মনির দায়ের করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গেল বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই আদেশের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। মামলার অপর আসামি আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধেও একই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে স্ত্রী রিয়া মনি এই মামলা করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এজন্য তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ মূল আসামি হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও বাদী রিয়া মনির মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্য দেখা দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বিরোধের জেরে হিরো আলম বাদীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে গত ২১ জুন বাদীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসার কথা বলে হাতিরঝিল থানাধীন এক বাসায় দেখা করতে ডাকা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে হিরো আলমসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশোভন ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর হিরো আলম ও তার সহযোগীরা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন এবং কাঠের লাঠি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। হামলার কারণে বাদীর দেহে জখমের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বাদীর গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়। ঘটনাস্থলে বাদীর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ঘटना ঘটার দুদিন পর, অর্থাৎ ২৩ জুন, রিয়া মনি বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলার অগ্রগতি ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় অপর আসামি আহসান হাবিব সেলিমকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
আকাশজমিন
/ আরআর