নিয়ম অনুযায়ী গত বুধবার রাতেই দর্শক ভোটের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মিস ইউনিভার্স অ্যাপ এবং মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘পিপলস চয়েস’ ক্যাটাগরির ভোটিং সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পিপলস চয়েস এক্সটেন্ড’ অপশন সক্রিয় থাকবে। এছাড়াও ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ এবং ‘ইভিনিং গাউন’—এই দুই বিভাগে ভোট দেওয়া যাবে ২১ নভেম্বর রাত ১০টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
এই সিদ্ধান্তে অনেকে স্বাগতম জানালেও বড় একটি অংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কারণ, এগিয়ে থাকা প্রতিযোগীরা হঠাৎ সময় বাড়ায় পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় শঙ্কায় আছেন, অন্যদিকে যারা পিছিয়ে ছিলেন, তাদের এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
একজন নেটিজেন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন—“মিস প্যারাগুয়ে একজন বিচারকের বান্ধবী হওয়ায় কি এই ভোটের সময় বাড়ানো হলো? ফিলিপাইন আর বাংলাদেশের মানুষ যেখানে রাত–দিন পরিশ্রম করে ভোট জোগাড় করছে, সেখানে টাকা দিয়ে ভোট কেনা আর সময় বাড়ানো সাধারণ প্রতিযোগীদের প্রতি অবিচার।”
যদিও এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল মন্তব্য করেনি মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এবারে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগী তানজিয়া জামান মিথিলা ভোটে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। ফলে অনেক বাংলাদেশির মতে, সময় বাড়ায় মিথিলাকে এগিয়ে আনতে সুবিধা হতে পারে।
এরই মধ্যে প্রতিযোগিতার বিচারকার্য নিয়েও নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। কয়েকদিন আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মূল বিচারক কমিটি থেকে দুই সদস্য পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করা একজন অভিযোগ করেন—অস্থায়ী জুরির কয়েকজন কিছু প্রতিযোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িত। তাদের উপস্থিতি স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করছে এবং বিচারকার্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ভোটিং টাইম এক্সটেনশন নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এলো।
বিভিন্ন দেশের ভক্তরা বলছেন—“একদিকে প্রতিযোগিতা চলছে, অন্যদিকে বারবার নিয়ম বদল। এতে দর্শক, ভোটার ও প্রতিযোগীদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।” আবার কেউ কেউ মন্তব্য করছেন—“ভোটের সময় বাড়ানো হলে যারা পিছিয়ে আছেন তাদের সুযোগ বাড়ে, কিন্তু এতে প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য—স্বচ্ছতা—ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আয়োজকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলছেন—এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিযোগীকে সুবিধা দিতে নেওয়া হলো? নাকি সবার জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করতে? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দর্শকদের মনে।
একদিকে বিচারকদের পদত্যাগ, অন্যদিকে ভোটিং প্রক্রিয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন—সব মিলিয়ে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা না দিলে, বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
আকাশজমিন / আরআর