ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হওয়া তিন স্টেশন চালুর পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক সাভার ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেপ্তার শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক: ডিএমপি ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার: মীর শাহে আলম

দুই ইস্যুতে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:০১ এএম

সাম্প্রতিক সময়ের দুটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথমত, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি ফয়সাল ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-চক্রের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে ভারতের ইন্ধন থাকতে পারে। কারণ, শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ভারতের বিভিন্ন আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভারতকে উদ্দেশ করে তির্যক ও কঠোর বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। এসব বক্তব্য নয়াদিল্লিও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন কর্মসূচি পালন করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে।

এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে এক ধরনের উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ সংযমী না হলে এই টানাপোড়েন আরও গভীর হতে পারে। কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের জন্যই সংবেদনশীল একটি সময় নির্দেশ করছে।

ইতোমধ্যে হাদির ওপর হামলায় জড়িত আসামির ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ঢাকার উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানাতে ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়। এর তিন দিনের মাথায়, ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ডেকে পাঠায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হুমকি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া উসকানিমূলক ভারতবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই তাকে তলব করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করার পর এক ধরনের পালটা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ভারত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকেছে। তার মতে, এখানে কূটনৈতিক দৃশ্যমানতার বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, হাদির ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তি ভারতে পালিয়ে গেছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হলে অপরাধী ফেরাতে ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো স্বাভাবিক। তবে উভয় দিক থেকেই এমন কিছু বক্তব্য আসছে, যা দুই দেশকেই স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করছে। এ কারণেই বর্তমান টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের কিছু বক্তব্যে বাংলাদেশকে নসিহত করা হয়েছে, যা তাদের প্রয়োজন নেই বলে সরকার মনে করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।

দুদেশের কূটনীতিকদের তলব ও পালটা তলব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কূটনৈতিক অঙ্গনে অস্বাভাবিক নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে উসকানি সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে তার বক্তব্য বন্ধ বা তাকে ফেরত চাওয়াকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বড় কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতির প্রকৃত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, দেশে অপরাধ করে কেউ যদি সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে পালাতে পারে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর