সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির ই-রিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। নতুন এই বিধিমালার অধীনে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন করতে পারবেন। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব নির্দেশনা ও নতুন নিয়মের কথা বিস্তারিত জানান।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে একজন ব্যক্তি কোনোভাবেই পাঁচটির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না। নিবন্ধনভুক্ত প্রতিটি গাড়িতে কিউআর কোডযুক্ত স্মার্ট নম্বরপ্লেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় রিকশার ডিজাইন বুয়েটের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত করা হবে এবং ঢাকা মহানগর এলাকাকে মোট ৮টি জোনে ভাগ করে ৮টি ভিন্ন রঙে জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। সিটি করপোরেশনগুলো আগামীকাল থেকেই চাইলে এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
নতুন বিধিমালা 'সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬'-এ ফিটনেস, গতিসীমা ও চার্জিং ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও বাৎসরিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ১০ হাজার ও বাৎসরিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য আলাদাভাবে ১ হাজার টাকা দিতে হবে এবং একটি রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে; অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ দেওয়া হলে কঠোর আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।