ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৩৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর বড় ধরণের আঘাত হেনেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনেরও বেশি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক হামলায় প্রথমে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিমান ও ভবনগুলো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় শত শত কোটি ডলারের মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর উপগ্রহ চিত্র ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের বিশ্লেষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের সুরক্ষাবলয়ে বড় ফাটলের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।


এপির বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ইরান এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর চালানো ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সমৃদ্ধ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে মার্কিন বাহিনী তাদের অনেক যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।


ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট এই তথ্যের বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী ও ঘাঁটিগুলো যথাযথ সুরক্ষার মধ্যেই রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি আরও জানান, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সেন্টকমের সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।


উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতেই সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে। এর পাশাপাশি বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। গত ১ মার্চ কুয়েতের পোর্ট শুআইবায় চালানো এক ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন, যা এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালিয়ে ১৫টি বিমান হ্যাঙ্গার ও বেশ কয়েকটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়েও হামলা চালিয়ে সেনা সদস্যদের জিমনেসিয়াম, ডাইনিং হল ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। কৌশলগত কারণে এসব স্যাটেলাইট ইমেজের তথ্য যাতে জনসমক্ষে দ্রুত প্রকাশ না পায়, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে প্রথমে সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী রাডারগুলো ধ্বংস করে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করে দেয়। জর্ডানে ধ্বংস হওয়া রাডারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত দুর্লভ ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। অন্যদিকে কাতারে ক্ষতিগ্রস্ত অপর রাডারটি ২০১৩ সালে ১১০ কোটি ডলার ব্যয়ে কেনা হয়েছিল। আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেসের প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এন. আর. জেনজেন-জোনস মনে করেন, এসব স্থানে সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী প্রতিরক্ষামূলক বা পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া।


পরবর্তী ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে একটি অত্যাধুনিক বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, একটি সিআইএ ইউনিট এবং বেশ কিছু জ্বালানি ট্যাঙ্কার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতেও হ্যাঙ্গার ও ড্রোন ইউনিটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। র‍্যান্ড স্কুলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক রাফায়েল কোহেন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ও কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর যেভাবে নির্ভর করা হতো, এই প্রযুক্তির যুগে সেই ধারণার সমাপ্তি ঘটেছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)


এ সম্পর্কিত আরো খবর