সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন করে ইরানের ওপর কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তবে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সেই সঙ্গে যেকোনো স্তরের শত্রুতামূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুহূর্তেই কার্যকর ও সর্বাত্মক সামরিক জবাব দিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন মোজতবা খামেনি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত সামরিক কমান্ডারদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি হালনাগাদ করারও কড়া তাগিদ দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট জানান, আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যাবতীয় কৌশলগত সম্পদকেই এই সম্ভাব্য হামলার নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উচ্চপর্যায়ের এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক আঘাত হানার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সেই হুমকির পিঠেই ইরান সরকারের মুখপাত্র ও নিরাপত্তা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মোজতবা খামেনির কঠোর অবস্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দৃশ্যত যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরানের এই কঠোর নির্দেশ পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও জটিল করে তুলল। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছেন যে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার আগুন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে। সূত্র: আলজাজিরা