মাইনফিল্ড ও ভয়াবহ খাদ্যসংকটের ভেতর দিয়ে রাশিয়ার দখলকৃত ওলেশকি শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত বেসামরিক মানুষকে। পোপ চতুর্দশ লিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্ত হয়ে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পৌঁছান এসব ভাগ্যহত মানুষ।
সিএনএন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সাল থেকে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেকে পালিয়ে গেলেও বয়স্ক ও অসুস্থসহ কয়েক হাজার মানুষ সেখানেই আটকে পড়েন। ২০২৩ সালে নোভা কাখোভকা বাঁধ ধসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ শহরটিতে তীব্র খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দেয়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, অনাহার এড়াতে অনেকে ঘাস ও আগাছা খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
এমন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পোপ চতুর্দশ লিও মানবিক সহায়তার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং মেলানিয়া ট্রাম্প দুই দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেন। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর থেকে ওলেশকি এলাকায় সাময়িক সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। তবে শহর থেকে বের হওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কে পেতে রাখা মাইন অপসারণের পর, শুক্রবার বাসিন্দাদের প্রথমে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের আনাপা শহরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে বেলারুশের গোমেল শহরে এবং পরবর্তীতে বাসে করে তারা ইউক্রেন সীমান্তে পৌঁছান। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে আসার পর তাদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্ধারকৃতদের স্বাগত জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রাম বার্তায় মধ্যস্থতার জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ওলেশকির ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, বিশ্ব যখন মনোযোগ দেয়, তখন মানুষের জীবন রক্ষা পায়। তবে উদ্ধার অভিযান চললেও কৌশলগতভাবে শহরটি এখনো রাশিয়ার দখলেই রয়েছে।