রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য ঘোষিত শিথিলের মাঝেই মুখোমুখি নতুন সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি রোববার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিল; অন্যদিকে ঠিক একই সময়ে পাল্টা ১২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ডেকেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। ফলে সাজেক কেন্দ্রিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
পার্বত্য
চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ পালন
করা হবে। এলাকায় সহিংসতা, সশস্ত্র মহড়া ও পর্যটকদের জিম্মি
করার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ উঠে আসে, গত ১১ অক্টোবর
থেকে সহিংসতা চললেও সম্প্রতি কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। এই এলাকায় পূর্ণ
নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অবশ্য রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদকর্মীদের গাড়ি
এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে,
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কঠিন চীবর
দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ১২ ঘণ্টা অবরোধ
শিথিলের বার্তা দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ২২ অক্টোবর
থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। গত ২৬ অক্টোবর
সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ৫ দফা দাবির
৪টিতে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্য অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অচলাবস্থা
কাটেনি।
দীর্ঘদিনের
এই অবরোধের দরুন সাজেকের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। এতে সেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র
সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে গত ২২ অক্টোবর
থেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তৈরি
হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।