যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো তরুণ ও যুবসমাজ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, যেকোনো জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবদের অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরই নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে তৎকালীন যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিত লাভ করে। এরপর তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ- তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ তরুণ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এসব উদ্যোক্তা প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি আয় করছেন। এছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদানে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এআই ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে নানা প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে, যাতে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ অর্থসংকটে আটকে না যায়। 'দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে তরুণরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতায় জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।