বিচারবিভাগ ও শীর্ষ আদালতের কর্তৃত্ব নিয়ে চরম রাজনৈতিক সংকটে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পোল্যান্ড। দেশটির সাংবিধানিক আদালতে (কনস্টিটিউশনাল ট্রাইব্যুনাল) বিচারকদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং চরম বিশৃঙ্খলার মুখে মাঝপথ থেকেই আফ্রিকা সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকি। শীর্ষ আদালত নিয়ন্ত্রণে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ, আদালতের বাইরে পুলিশ মোতায়েন এবং বিচারকদের সাময়িক বরখাস্তকে কেন্দ্র করে দেশটিতে কার্যত বিচারবিভাগীয় অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী ওয়ারশতে ফিরে এসেছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সেনেগালগামী বিমানটি স্পেনের আকাশসীমায় থাকা অবস্থাতেই নিজের অফিশিয়াল এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকি সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, "এমন এক মুহূর্তে দেশের প্রেসিডেন্টকে পোল্যান্ডেই থাকতে হবে। আমি সেনেগাল সফর স্থগিত করে দেশে ফিরে আসছি।" অন্যদিকে, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাস্ক সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, "আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব। ল অ্যান্ড জাস্টিস (পিআইএস) পার্টির দীর্ঘ বছরের বেআইনি কাজের পর এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কঠিন ও বেদনাদায়ক হলেও দেশের জন্য এটিই একমাত্র পথ।"
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে, যখন সাংবিধানিক আদালতের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এক আদেশে ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট বগদান সোয়েচকোভস্কি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্টলোমিজ সোচানস্কিকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন বিচারক আন্না কোরউইন-পিওত্রোভস্কা। তিনি সার্বজনীন সম্প্রচার মাধ্যম টিভিপি ইনফো (TVP Info)-কে জানান, তিনি এই দুজনকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। তবে আদালতের মূল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই পদক্ষেপকে অবৈধ এবং 'অভ্যুত্থানের চেষ্টা' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালতের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকানোর অপরাধে পুলিশ তিনজনকে আটকও করেছে। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পিআইএস (PiS) প্রধান জারোসল ক্যাসিনস্কি এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত দখলের অভিযোগ তোলেন। একই সময়ে বিচারমন্ত্রী ও প্রসিকিউটর জেনারেল ওয়ালদেমার জুরেক উক্ত শীর্ষ দুই বিচারকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এনে তাঁদের বিচারিক দায়মুক্তি তুলে নেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এই ধারাবাহিক দ্বন্দ্বে পোল্যান্ডের বিচারবিভাগ এখন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।
(সূত্র: টিভিপি ইনফো