যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা থেকে হটাতে এবার রাজপথে নেমেছেন সাধারণ ইসরায়েলিরা। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নতুন সরকার গঠনের জোর দাবি তুলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবে হাজার হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর এই আরব দলগুলোই এখন সরকার গঠনের চাবিকাঠি বা 'কিংমেকার' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ২৬তম নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে আরব দলগুলো। অন্যদিকে, ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ৬১ পেতে হিমশিম খাচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলো। এমতাবস্থায় গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রতি আরবদের আসনগুলোর সমর্থন নিয়ে মোট ৬৭টি আসন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। তেলআবিবের রাজপথের বিক্ষোভ থেকে সাধারণ মানুষ সোচ্চার কণ্ঠে দাবি জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহুর যুগের অবসান ঘটাতে বিরোধী দলগুলোর উচিত অবিলম্বে আরবদের সঙ্গে হাত মেলানো। যদিও নির্বাচনপূর্ব সময়ে গাদি আইজেনকোত আরবদের সঙ্গে জোট না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ওপর জনমত ও রাজপথের চাপ চরম আকার ধারণ করেছে।
এদিকে আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তেলআবিবের এই বিক্ষোভস্থল বেশ আবেগঘন এক পরিবেশের সাক্ষী হয়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিরা যেকোনো উপায়ে নেতানিয়াহুর পতন দেখতে চান এবং বিরোধী নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন জনগণের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য। তবে এই পরিবর্তনের দাবির পাশাপাশি পাল্টা অবস্থানে নেমেছেন নেতানিয়াহুর উগ্রডানপন্থি সমর্থকেরাও। তথাকথিত 'সন্ত্রাসীদের' সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন বরদাস্ত করা হবে না—এমন স্লোগান দিয়ে তারাও রাজপথ দখলে রাখার চেষ্টা করছেন।
নেসেটের সমীকরণ অনুযায়ী, ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হওয়া বিরোধী জোট যদি শেষ পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবেই দীর্ঘমেয়াদি নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী এই রাজনৈতিক উত্তাপ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।