বলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং দীর্ঘদিন ধরেই বড় কোনো হিট সিনেমায় চোখে পড়েননি। ‘দেশি বয়েজ’, ‘হাউজফুল-৫’, ‘হাজারও খোয়াইশে অ্যায়সি’, ‘আই মি অউর ম্যায়’, ‘সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার’, ‘বাজার’, ‘বব বিশ্বাস’, ‘পরিক্রমা’সহ ভিন্নধাঁচের বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি, কিন্তু বড় তারকাদের কাতারে উঠতে পারেননি বলেই জানান সমালোচকরা। অনেক নির্মাতার কাছ থেকে খানিকটা অবহেলিত থেকেছেন চিত্রাঙ্গদা। তবে এসব হতাশা তাকে থামাতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সময় থেকে অভিনয় ক্যারিয়ারে নতুন উদ্যম নিয়ে ছোট পর্দা ও অনলাইন ধারাবাহিকে কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেছেন তিনি। ‘রাত আকেলি হ্যায়: দ্য বানসাল মার্ডারস’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন বলে চিত্রাঙ্গদা জানান।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিত্রাঙ্গদা বলেন, “যে কোনো ভালো কাজ আত্মবিশ্বাস জোগায়। যদিও যেসব সিনেমায় অভিনয় করে আশার আলো দেখেছিলাম, সেগুলো কিছুটা হতাশার কারণও হয়েছে। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে নতুন করে পথচলা শুরু করেছি। দর্শক থেকে পাওয়া উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি অবাক হয়েছি যে, অন্যান্য শিল্পীদের তুলনায় কম কাজ করেও দর্শকরা আমাকে ভুলে যায়নি এবং এখনও আমার কাজকে গ্রহণ করছেন। ‘রাত আকেলি হ্যায়’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে এর প্রমাণ পেয়েছি। তাই চেষ্টা করছি, ভিন্নধাঁচের আরও কিছু কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছাকাছি থাকতে।”
চিত্রাঙ্গদা আরও জানান, “মানসম্পন্ন কাজই স্থায়ী হয়, তা যে মাধ্যমেই হোক না কেন। সিনেমা বা ধারাবাহিকের মাধ্যমে চরিত্র এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই, যা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে। এটা সহজ কাজ নয়, কিন্তু এই চেষ্টা কখনও থামাব না যতক্ষণ না দর্শক মনে দাগ কাটে।”
তিনি বলেন, “আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছুর পর বুঝেছি ভালো কাজ মানুষ ভুলে যায় না। আমার কাজের সংখ্যা কম হলেও সেটা মনে রাখার মতো হয়েছে। হয়তো বেশি কাজ করতে পারতাম, কিন্তু সংখ্যা বাড়িয়ে কতটুকু লাভ হত জানি না। তাই আমি সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে ভালো কাজ বেছে নেওয়াই শ্রেয় মনে করেছি। যদিও অনেকে এ ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে একমত নই।”
২০ বছর ক্যারিয়ারে অনেক কাজ না করেও ধীরগতিতে ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চান চিত্রাঙ্গদা। তার কথায়, “ধীরগতিতে চলা আমার বিশ্বাস ছিল। তাই দুই দশক পার করেও হতাশায় পড়িনি। আমার ধারণা, দর্শকরাও বুঝতে পারেন কাজের সংখ্যা তারকাদের বিচার করে না। গুটিকয়েক ভালো কাজই মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়।”
আকাশজমিন / আরআর