ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

মডেল মানোহারার দাবি

কিশোরী বয়সে জোরপূর্বক বিয়ে করেছিলেন মালয়েশিয়ার রাজপুত্র


  • আপলোড সময় : শনিবার ১০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৫৮ পিএম

২০০৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইন্দোনেশীয়-আমেরিকান মডেল মানোহারা ওডেলিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সুলতানের ছেলে টেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানোহারা একটি খোলা চিঠিতে দাবি করেছেন, কিশোরী বয়সে তাকে বাধ্য করে বিয়ে করা হয়েছিল এবং সেই সম্পর্কটিতে তার কোনো সম্মতি ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ‘পেত্রার সাবেক স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই খোলা চিঠিতে তিনি গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অনুরোধ করেন, তার পরিচয়ে এই তকমাটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে। মানোহারা উল্লেখ করেন, ১৫ বছর আগে তার কিশোর বয়সে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তার জন্য একটি বিভীষিকাময় অধ্যায় ছিল।

বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী এই মডেল তার পোস্টে বলেন, “আমার কিশোর বয়সে যা ঘটেছিল, তা কোনো সুখকর সম্পর্ক ছিল না, কোনো সম্মতির সম্পর্ক ছিল না; এমনকি কোনো বৈধ বিয়ে ছিল না। আমি কখনোই এমন কোনো সম্পর্ক চাইনি, এতে রাজি হইনি বা স্বেচ্ছায় জড়াইনি।”

২০০৮ সালের সেই বিয়ে তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরবর্তী বছর ২০০৯ সালে, মাত্র এক বছর বিয়ে থাকার পর, মানোহারা রাজকীয় পরিবারের সঙ্গে সিঙ্গাপুর সফরের সময় নাটকীয়ভাবে পালিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় চলে যান। তার পালানোর পেছনে তার পরিবারের, স্থানীয় পুলিশ এবং মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা ছিল।

মানোহারা আরও জানান, সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং কোনো স্বাধীনতা বা পছন্দের সুযোগ ছিল না। তাকে বাধ্য করে এই বিয়েতে আবদ্ধ করা হয়েছিল।

তাঁর খোলা চিঠিতে তিনি ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম, সম্পাদক, লেখক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অনুরোধ জানান, তার পরিচয় প্রকাশের সময় ‘পেত্রার সাবেক স্ত্রী’ তকমাটি ব্যবহার করা বন্ধ করতে। তিনি বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন লেখা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।

মানোহারা ওডেলিয়া এক সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে মডেলিং ও বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সুলতানের ছেলে টেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রার সঙ্গে বাধ্যতামূলক বিয়ে এবং পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়ার সংগ্রাম তার জীবনকে জটিল করে তোলে।

এই সম্পর্ক ও পরবর্তী পালানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং অনেক গণমাধ্যমের নজরে এসেছে। তারা কিশোরী বয়সে জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

মানোহারা বর্তমানে নিজের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর