ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা খুলনায় রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় আতঙ্ক রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী

ভারতের হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি, চীন ও বাংলাদেশের ওপর নজর


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতীয় নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে নৌ উপস্থিতি জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের নৌ তৎপরতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্ভূত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জানিয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি নয়; বরং এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে প্রধানত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। বিদ্যমান হালদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করে ঘাঁটিটি দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বিশেষ জেটি এবং প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

নতুন ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ এবং ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এগুলিতে সিআরএন-৯১ কামান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নাগাস্ত্রার মতো টহলদারি যান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নজরদারি ও আঘাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ভারত–বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর জলরাশি এবং নৌযান চলাচলের ঘনত্বের কারণে দ্রুতগতির এই নৌযানগুলো নজরদারি, প্রতিরোধ এবং আটক কার্যক্রমে অত্যন্ত কার্যকর।

চীনের নৌবহর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে দেশটির অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কও ভারতকে উদ্বেগে ফেলেছে।

হলদিয়ার এই নৌঘাঁটি আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক স্থায়ীভাবে অবস্থান করবেন। এটি স্বতন্ত্র নৌকমান্ড হিসেবে কাজ করবে না, তবে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান ও হুগলি নদীপথ এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুবিধার কারণে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভারতের পূর্ব উপকূলে বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালদিয়ার জন্য জমি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছিল।

হলদিয়ার নৌঘাঁটি ভারতের নৌবাহিনীর বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কেনার অনুমোদন দেয়।

প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব নৌযানে সাধারণত ১০–১২ জন সদস্য কাজ করতে পারেন। উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানে এসব নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


 আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর