চতুর্থ দফায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়িয়েছে এনবিআর। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা এখন ৩১ মার্চ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত শেষ সময়। তবে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় চলতি অর্থবছরে ইতোমধ্যে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন চতুর্থ দফায় তা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হচ্ছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, সদ্য বিদায়ী সংসদ নির্বাচনসহ নানা প্রশাসনিক ও বাস্তব কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি। করদাতাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে যারা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তারা জরিমানা ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও এখনো বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি। এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা এক কোটি ২৩ লাখ। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার করদাতা। কাগুজে রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় তিন লাখ।
সে হিসাবে এখনো প্রায় ৮১ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি। কর প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সময় বাড়ানোর ফলে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমা দেন, তারা বাড়তি সময়ের সুবিধা পাবেন।
গত অর্থবছরেও ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য তিন দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল। তখন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। সে বছর মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল ৪৫ লাখ।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ই-রিটার্ন পদ্ধতিকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কর প্রশাসনকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য রয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে পারেন। পাশাপাশি কর নেট সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সময়মতো রিটার্ন জমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে এনবিআর আশা করছে, নতুন সময়সীমার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেবেন এবং মোট রিটার্নের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বাড়বে।
আকাশজমিন /
আরআর