বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক-কে জরুরি তহবিল হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৯০ দিনের জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়েছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ সরবরাহে চাপের মুখে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা তহবিল সংকটে রয়েছে। গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো পরিশোধে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে এবং লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। গ্রাহকদের আমানত উত্তোলনের চাপ সামাল দিতে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে সাধারণত ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বেড়ে যায়। ব্যক্তিগত কেনাকাটা, ব্যবসায়িক লেনদেন ও বেতন-ভাতা প্রদানের কারণে এ সময় তারল্যের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে। কিন্তু চলতি সময়ে আমানত প্রবৃদ্ধি ও ঋণ আদায়ের হার প্রত্যাশিত না হওয়ায় কিছু ব্যাংক তারল্য ঘাটতির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি সহায়তা ব্যাংকিং খাতে আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের নিজস্ব আমানত সংগ্রহ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনা জরুরি। অন্যথায় পুনরাবৃত্ত তারল্য সংকট ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, ৯০ দিনের জন্য দেওয়া এ সহায়তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি উন্নত হলে গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্বিক ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
আকাশজমিন / আরআর