ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

ভালুকায় হামলায় পঙ্গু যুবদল নেতা রাসেল, ১৭ বছরেও নেই বিচার


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৩৪ পিএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

২০০৯ সালের ১১ মে। শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজনৈতিক সহিংসতার এক নৃশংস ঘটনার শিকার হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা রাকিবুল হাসান রাসেল। দীর্ঘ ১৭ বছর পরও সেই হামলার ক্ষত তিনি এখনো বহন করছেন—শরীরে ও মনে।

রাসেল বর্তমানে ভালুকা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার মৎস্য খামারে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। হামলার ঘটনায় তার জীবন বদলে গেলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে তিনি সরে যাননি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন দুপুরে তাকে তার মৎস্য খামার থেকে তুলে নিয়ে ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া বাজারের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ইটের ওপর ফেলে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং দুই পায়ের আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।

রাসেল অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার খামার থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নেয়। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ পাঠানো হয়। সেখানে ছয় মাস চিকিৎসা নেন তিনি। প্রাণে বাঁচলেও বাম হাত প্রায় অবশ হয়ে যায় এবং দুই পায়ের আঙুল বাঁকা হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিজে জামাকাপড় পরতেও কষ্ট হয়।

তার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভালুকা থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি আদালতে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখা হয় বলে তার দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাবুলের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও অভিযোগে উঠে আসে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাসেল বলেন, রাজনৈতিক মামলায় তাকে ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। চার ছেলের গ্রেফতার মেনে নিতে না পেরে তার বাবা, স্কুলশিক্ষক আবদুল আওয়াল মাস্টার স্ট্রোক করে মারা যান। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি বাবার জানাজায় অংশ নেন।

হামলার পরও থেমে থাকেননি রাসেল। পঙ্গু শরীর নিয়েই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ৪৮টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একাধিকবার তিনি কারাবরণও করেছেন।

রাসেল বলেন, তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন, কিন্তু নির্যাতনের যন্ত্রণা প্রতিদিন বয়ে বেড়াচ্ছেন। শীত এলে ব্যথা বাড়ে। হাতের আঙুল সোজা করতে পারেন না এবং ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি হতাশ নন, বরং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।

ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভুক্তভোগীদের আস্থা আরও কমে যাবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর