ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ভালুকায় হামলায় পঙ্গু যুবদল নেতা রাসেল, ১৭ বছরেও নেই বিচার


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৩৪ পিএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

২০০৯ সালের ১১ মে। শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজনৈতিক সহিংসতার এক নৃশংস ঘটনার শিকার হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা রাকিবুল হাসান রাসেল। দীর্ঘ ১৭ বছর পরও সেই হামলার ক্ষত তিনি এখনো বহন করছেন—শরীরে ও মনে।

রাসেল বর্তমানে ভালুকা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার মৎস্য খামারে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। হামলার ঘটনায় তার জীবন বদলে গেলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে তিনি সরে যাননি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন দুপুরে তাকে তার মৎস্য খামার থেকে তুলে নিয়ে ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া বাজারের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ইটের ওপর ফেলে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং দুই পায়ের আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।

রাসেল অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার খামার থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নেয়। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ পাঠানো হয়। সেখানে ছয় মাস চিকিৎসা নেন তিনি। প্রাণে বাঁচলেও বাম হাত প্রায় অবশ হয়ে যায় এবং দুই পায়ের আঙুল বাঁকা হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিজে জামাকাপড় পরতেও কষ্ট হয়।

তার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভালুকা থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি আদালতে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখা হয় বলে তার দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাবুলের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও অভিযোগে উঠে আসে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাসেল বলেন, রাজনৈতিক মামলায় তাকে ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। চার ছেলের গ্রেফতার মেনে নিতে না পেরে তার বাবা, স্কুলশিক্ষক আবদুল আওয়াল মাস্টার স্ট্রোক করে মারা যান। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি বাবার জানাজায় অংশ নেন।

হামলার পরও থেমে থাকেননি রাসেল। পঙ্গু শরীর নিয়েই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ৪৮টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একাধিকবার তিনি কারাবরণও করেছেন।

রাসেল বলেন, তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন, কিন্তু নির্যাতনের যন্ত্রণা প্রতিদিন বয়ে বেড়াচ্ছেন। শীত এলে ব্যথা বাড়ে। হাতের আঙুল সোজা করতে পারেন না এবং ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি হতাশ নন, বরং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।

ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভুক্তভোগীদের আস্থা আরও কমে যাবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর