ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৫৮ পিএম

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (১ মার্চ) ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার অংশ হিসেবে আহমেদিনেজাদের বাড়ি টার্গেট করা হয়। উত্তর-পূর্ব তেহরানের নার্নাক এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবনে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি ছাড়াও তার কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা হতাহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার বক্তব্য প্রায়ই আলোচনার জন্ম দিত। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান তাকে বিশ্ব রাজনীতিতে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি আরদাবিল প্রদেশের গভর্নর এবং তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় প্রশাসন থেকে জাতীয় নেতৃত্বে তার উত্থান ইরানের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। তবে ওই নির্বাচন ছিল ব্যাপক বিতর্কিত। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ইরানজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে টানা আন্দোলন চলে। সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

আহমেদিনেজাদের প্রেসিডেন্সিকালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তার বক্তব্য ও নীতির কারণে ইরান একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। তবে দেশের অভ্যন্তরে তিনি সমর্থক ও সমালোচক—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই পেয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ ঘটনায় এখনো ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি খবরটি নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর