ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের ভয়ে আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করলো জর্ডান


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:০৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে জর্ডান। সোমবার (২ মার্চ) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আকাশপথে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাত্রী ও বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে আকাশসীমার একটি অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে এলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। আকাশসীমা আংশিক বন্ধের ফলে কিছু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকল্প রুট ব্যবহার করে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে, তবে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা থেকেই সতর্কতামূলক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আঞ্চলিক আকাশপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামান্য ঝুঁকিও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ফলে জর্ডানের এই পদক্ষেপকে প্রতিরোধমূলক ও সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জর্ডান ভৌগোলিকভাবে একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার মধ্যে বহু ফ্লাইট চলাচল করে। ফলে আকাশসীমা আংশিক বন্ধের প্রভাব আঞ্চলিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ফ্লাইট রুট পরিবর্তন করছে। এর ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জর্ডান সরকার জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইতোমধ্যে তেলবাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এখন আকাশপথেও তার প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। জর্ডানের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গভীরতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর