ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস চলতি সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ওপর ভোট দিতে যাচ্ছে। এই প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাধ্য করা হবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সীমিত করতে। যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Act) মূলত প্রেসিডেন্টের বিদেশে সেনা পাঠানোর ক্ষমতা কংগ্রেসের অনুমোদনের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে।

এই আইনের অধীনে, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো বিদেশী সংঘর্ষে যুক্ত করতে পারবে না। আইনটি নিশ্চিত করে, সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অবহিত করা এবং সিদ্ধান্তের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করা বাধ্যতামূলক।

কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্টের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্তি দেন, আসন্ন হুমকির কারণে তাদের পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

আইনের ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সেনা মোতায়েনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। এছাড়া, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে সেনা মোতায়েনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং সীমা স্পষ্ট করতে হবে।

গত এক বছরে, কংগ্রেসের সদস্যরা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোকে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা ও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে অনেকজন সাধারণ নাগরিকও ছিলেন।

সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর ইরানে কমপক্ষে ৭৪২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭৬ শিশু রয়েছে। ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, সামরিক অভিযান আকাশপথে সীমিত এবং স্থলসেনা জড়িত নয়। তবে কংগ্রেসের মধ্যে কিছু সদস্যের মতে, এই যুক্তি যথেষ্ট নয়, কারণ ভবিষ্যতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টের একতরফা সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কংগ্রেসকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও সেনা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারি ক্ষমতা দেয়। আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের স্বীকৃতি ব্যতীত দীর্ঘমেয়াদী বা বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা।

এই আইনের আলোকে, কংগ্রেসের ভোট গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করতে পারে। এটি শুধুমাত্র ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতেই প্রযোজ্য নয়, বরং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা



এ সম্পর্কিত আরো খবর