ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খামেনি জীবিত না মৃত? ফ্যাক্ট চেক কী বলছে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত না মৃত—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অতর্কিত হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে কিছু অনলাইন পোস্ট ও দাবি সামনে এলেও নির্ভরযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় সূত্র থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হামলা ও প্রাণহানির খবর প্রকাশ পেলেও খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়, তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়।

তথ্য যাচাইয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ছবিটি ২০১৪ সালের পুরোনো একটি ছবি, যা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তোলা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ছবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ বা অফিসিয়াল সূত্রও ওই দাবির সমর্থনে পাওয়া যায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রচারকে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

Ayatollah Ali Khamenei সম্পর্কে ছড়ানো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো এখনও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যু বা জীবিত থাকার বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

মাও নিং আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন তার জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চীন ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। এই তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই ঘোষণার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওই রুটে চলাচল স্থগিত করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবর দ্রুত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে নতুন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর