ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

খামেনি জীবিত না মৃত? ফ্যাক্ট চেক কী বলছে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত না মৃত—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অতর্কিত হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে কিছু অনলাইন পোস্ট ও দাবি সামনে এলেও নির্ভরযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় সূত্র থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হামলা ও প্রাণহানির খবর প্রকাশ পেলেও খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়, তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়।

তথ্য যাচাইয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ছবিটি ২০১৪ সালের পুরোনো একটি ছবি, যা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তোলা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ছবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ বা অফিসিয়াল সূত্রও ওই দাবির সমর্থনে পাওয়া যায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রচারকে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

Ayatollah Ali Khamenei সম্পর্কে ছড়ানো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো এখনও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যু বা জীবিত থাকার বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

মাও নিং আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন তার জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চীন ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। এই তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই ঘোষণার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওই রুটে চলাচল স্থগিত করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবর দ্রুত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে নতুন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর