ক্রীড়া ডেস্ক
সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরা এখনও অপেক্ষার ধারা অব্যাহত রেখেছে। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকার পাশাপাশি অনুশীলনে অংশগ্রহণ না করার কারণে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজে তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। অর্থাৎ, সাকিব ও তার ভক্তদের অপেক্ষা আরও বাড়ছে।
গত কয়েক মাস ধরে সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চললেও পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আর নেই। নির্বাচক ও কোচিং স্টাফ মনে করছেন হঠাৎ করে সাকিবকে স্কোয়াডে যুক্ত করা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া সাকিবের চলমান মামলার কারণে দেশের বাইরে ফেরার বিষয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গতকাল (বুধবার) কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, “সাকিবের মামলার বিষয়টি চলমান। বিসিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় কাজ করছে, সঙ্গে আমাদের লিগ্যাল টিমও রয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, “সাকিবকে দলে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আশাবাদী। যে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মন্ত্রণালয় ও বিসিবি একসাথে সমাধান করছে। আমরা আশা করি খুব দ্রুত সাকিবকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে দেখতে পারব। আপনার মতো সাকিবিয়ানদের মতো আমরা সবাই অপেক্ষা করছি।”
বাংলাদেশের হয়ে সাকিব দীর্ঘ সময় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার অভিজ্ঞতা, অলরাউন্ডার দক্ষতা এবং ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা দলের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। তাই জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ এবং বিসিবি কর্মকর্তা সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছেন যাতে সাকিব পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় দলে ফিরতে পারেন।
পাশাপাশি, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকার কারণে তাকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। হঠাৎ করে দলে অন্তর্ভুক্ত করলে খেলার মান ও দলীয় সমন্বয়ে প্রভাব পড়তে পারে। এরই কারণে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে তার নাম নেই।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আগামী ১১ মার্চ থেকে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। প্রতিটি ম্যাচের শুরু দুপুর সোয়া ২টায় নির্ধারিত। তবে এখনও আসন্ন সিরিজের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়নি।
সাকিবের ফেরা নিয়ে দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোচনা তীব্র। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও বিশ্লেষণ চলছে। সাকিবের অনুপস্থিতি দলকে এক ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। তবে বিসিবি ও নির্বাচকরা নিশ্চিত করেছেন, দলের সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী সাকিবের দলে ফেরা হবে এবং তার অনুপস্থিতি সঠিকভাবে ম্যানেজ করা হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনগত জটিলতা সমাধান হয় এবং সাকিব জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। তার ভক্তরা অধীর আগ্রহে প্রতিটি আপডেটের অপেক্ষা করছেন। পাকিস্তান সিরিজ শেষে যদি সব কিছু ঠিকভাবে এগোতে থাকে, তবে শীঘ্রই সাকিবকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে।
সাকিবের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে দলে নতুন শক্তি যোগ হবে। আগামী সময়ে তার রিটার্ন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দল ও দেশের ক্রিকেটভক্তরা এখন সাকিবের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।