ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

মধ্যপ্রাচ্যে ১৯তম ধাপের হামলা শুরু


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা এবং ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ১৯তম ধাপের বড় মাত্রার হামলা শুরু করেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালাচ্ছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইয়িনি বলেন, “ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা আগের যুদ্ধের তুলনায় আরও বিধ্বংসী ও ধারাবাহিক হবে। শত্রুরা প্রতিনিয়ত কঠিন সময়ের অপেক্ষায় থাকুক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইআরজিসির ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গত বছরের তুলনায় বেশি উন্নত ও শক্তিশালী। এ ছাড়া লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের সংখ্যা শত্রুর ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের এই অভিযান এমন সময় করা হয়েছে যখন গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দেশটি একাধিক হামলা চালাচ্ছে। এই হামলার পেছনে বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক কৌশলকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালাচ্ছে। লক্ষ্যবস্তুতে শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোও রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় ইরানি পতাকা নামিয়ে উড়ানো হয়েছে কালো পতাকা, যা শোকের ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এমন ধারাবাহিক প্রতিরোধ ও হামলার প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এই অঞ্চলের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাজার, বাণিজ্যপথ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে মানবিক সংকট এবং শরণার্থী সমস্যা আরও জটিল আকার নিতে পারে।

আইআরজিসির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের এই ক্রমাগত হামলা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলও পরিবর্তন করতে হতে পারে।

এই ১৯তম ধাপের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সংঘাত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর