ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ইরান যুদ্ধে তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এড হারস সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হারস আল জাজিরাকে বলেন, “যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জ্বালানি তেলের অর্ধেক সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়, এবং মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে না পারে, তাহলে পরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এই প্রভাব ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, এলএনজি (LNG) বাজারেও এই উত্তেজনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। হামলার প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এড হারস আরও সতর্ক করে বলেন, তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ এখনই গ্যাসের বিকল্প হিসেবে পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যতের জ্বালানি অর্ডারও প্রভাবিত হচ্ছে। হারস বলেন, “এই পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব পড়বে নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন প্রভাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য প্রতিকূল হবে।”

হরমুজ প্রণালী ও তার গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী ওমান এবং ইরানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোক পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারকদের জন্য এটি প্রধান রুট।

তাছাড়া, কাতার থেকে সরবরাহকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় সবকটি এই প্রণালী দিয়ে যায়। বর্তমানে ইউরোপে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে এই প্রণালীর নিরাপত্তাহীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিকল্প পাইপলাইন খুব সীমিত এবং ধারণক্ষমতাও কম, তাই প্রণালী বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হবে।

অর্থনীতিবিদ হারসের মতে, সরবরাহ সামান্য বিঘ্নিত হলেও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়াবে, যার প্রভাব সাধারণ জনগণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বিশেষভাবে জরুরি।

সূত্র: আল-জাজিরা



এ সম্পর্কিত আরো খবর