ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৯:১৬ পিএম

আজারবাইজানের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তারা কোনোভাবেই আজারবাইজানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।

আজারবাইজান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের স্বায়ত্তশাসিত নাখচিভান অঞ্চলে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন বিমানবন্দরের একটি ভবনে আঘাত করে। এ ঘটনায় তারা সন্দেহ করছে যে ড্রোনগুলো ইরান থেকে এসেছে। এই ঘটনার পর তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে আজারবাইজান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি বলেছেন, ইরান কখনোই আজারবাইজানকে লক্ষ্যবস্তু করেনি এবং এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করি না।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের নীতি হলো কেবল সেইসব সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো, যেগুলো দেশটির বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় শত্রুদের ঘাঁটিগুলোই মূল লক্ষ্য।

ইরানের এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটির প্রসঙ্গও উঠে আসে। কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ইরান শুধুমাত্র সেইসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেগুলো তাদের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলোও রয়েছে।

এদিকে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাখচিভান অঞ্চলে আঘাত হানা ড্রোনগুলোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত মাঝে মাঝেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং পাল্টা অস্বীকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নাখচিভান অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক ঘটনা দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত উৎস নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল। তদন্তের ফলাফল সামনে এলে এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর