ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৯:১৬ পিএম

আজারবাইজানের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তারা কোনোভাবেই আজারবাইজানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।

আজারবাইজান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের স্বায়ত্তশাসিত নাখচিভান অঞ্চলে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন বিমানবন্দরের একটি ভবনে আঘাত করে। এ ঘটনায় তারা সন্দেহ করছে যে ড্রোনগুলো ইরান থেকে এসেছে। এই ঘটনার পর তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে আজারবাইজান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি বলেছেন, ইরান কখনোই আজারবাইজানকে লক্ষ্যবস্তু করেনি এবং এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করি না।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের নীতি হলো কেবল সেইসব সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো, যেগুলো দেশটির বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় শত্রুদের ঘাঁটিগুলোই মূল লক্ষ্য।

ইরানের এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটির প্রসঙ্গও উঠে আসে। কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ইরান শুধুমাত্র সেইসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেগুলো তাদের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলোও রয়েছে।

এদিকে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাখচিভান অঞ্চলে আঘাত হানা ড্রোনগুলোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত মাঝে মাঝেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং পাল্টা অস্বীকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নাখচিভান অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক ঘটনা দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত উৎস নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল। তদন্তের ফলাফল সামনে এলে এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর