ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুর্দিরা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে ধ্বংস করে দেওয়া হবে: আইআরজিসি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:২৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা আজ শনিবার সকালে ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দিদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা আইআরজিসি’র তাসনিম বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যদি এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের ধ্বংস করা হবে।” আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে, যে কোনো ধরনের স্বাধীনতাবাদী কর্মকাণ্ড ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ।

ইরানের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো যখন কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরাকের কুর্দি অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসিত বলা হলেও, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় কুর্দি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা সীমান্তে স্থায়ী নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।

আইআরজিসি-এর এই হামলা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশল কুর্দি অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, এই ধরণের পদক্ষেপ কুর্দি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই ঘটনার খবরে জানিয়েছে, ইরান গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তবর্তী কুর্দি অঞ্চলে নজরদারি এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের সামরিক কৌশল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দৃঢ় নজরদারি, হঠাৎ হামলার প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড রোধের ওপর ভিত্তি করে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকে লক্ষ্য করে তারা যে হামলা চালিয়েছে, তা প্রতিরক্ষা এবং হুমকি প্রতিহতের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, এই ধরনের হুমকি ইরানের সার্বভৌমত্বে ক্ষতি করতে পারে, তাই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের পদক্ষেপ কুর্দি অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে ইরান তা বলছে, তারা শুধুমাত্র আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই হামলার ফলে কুর্দি অঞ্চলে মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও দেখা দিতে পারে। যদিও আইআরজিসি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে এ ধরনের হামলা সাধারণত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর