ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে হামলায় ৬,৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক অবকাঠামো। হামলার ফলে ৫ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক ভবন বা ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলো আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে, আবার কিছু ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া হামলার ফলে ১ হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে ১৪টি চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা প্রদানেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

শুধু চিকিৎসা কেন্দ্রই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় ৬৫টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

এ ছাড়া ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩টি কেন্দ্র হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব কেন্দ্র সাধারণত জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় বেশ কিছু উদ্ধারকারী যানবাহন এবং ত্রাণবাহী গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। আহত কর্মীদের স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা এবং জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর