ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ নিয়ে আতঙ্ক


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৪৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলি হামলায় তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের রাজধানী তেহরানে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে নগরীর বহু বাসিন্দা ঘুম থেকে উঠে দেখেন আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ এবং সেখান থেকে ঝরছে কালো রঙের বৃষ্টি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বৃষ্টির পানিতে তেলের মতো একটি স্তর দেখা যাচ্ছে এবং তা স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির তুলনায় অনেক বেশি কালচে। এতে নগরজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সিএনএন এর প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন তেহরান থেকে জানান, এই বৃষ্টির পানিতে তেলের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার ভাষায়, বৃষ্টির পানি কালো দেখাচ্ছে এবং মনে হচ্ছে সেটি তেলের সঙ্গে মিশে গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা থেকে সামরিক সংস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। হামলার ফলে কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। আগুন লাগার পর বিপুল পরিমাণ তেলের ধোঁয়া এবং কার্বন কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধোঁয়া ও তেলের কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মেঘের সঙ্গে মিশে গেছে। পরে বৃষ্টিপাতের সময় সেই কণাগুলো পানির সঙ্গে মিশে বৃষ্টির রঙ কালচে হয়ে উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণের পর দেখা যেতে পারে। তেল ও কার্বনের ক্ষুদ্র কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়লে তা মেঘের সঙ্গে মিশে বৃষ্টির পানিকে দূষিত করে তুলতে পারে।

এদিকে টেলিগ্রাম বার্তায় দেওয়া এক সতর্কবার্তায় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তেল ও রাসায়নিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ফলে বিষাক্ত কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কণা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দূষিত বৃষ্টির পানি ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আইআরসিএস। তারা অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, বৃষ্টির পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল স্থাপনায় হামলার ফলে সৃষ্ট দূষণ শুধু স্থানীয় পরিবেশেই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দূষণের মাত্রা নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর