ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায় সৌদি সফরে চীনের বিশেষ দূত


যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায় সৌদি সফরে চীনের বিশেষ দূত

  • আপলোড সময় : সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:২৫ পিএম

চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার লক্ষ্যে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার অংশ হিসেবে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি–স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরব সফরকালে ঝাই জুন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের সময় ঝাই জুন তাঁর দেশকে রিয়াদের ভালো বন্ধু ও অংশীদার বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

চীনের এই বিশেষ দূত বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো দেশ বা পক্ষের উচিত নয় এই মৌলিক নীতিগুলো লঙ্ঘন করা।

ঝাই জুন আরও বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা কিংবা সামরিক নয়—এমন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। এসব হামলার নিন্দা জানানো উচিত এবং সব পক্ষের উচিত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে সংযম প্রদর্শন করা।

চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার বিষয়ে বেইজিংয়ের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন ঝাই জুন। তিনি বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং সংলাপ, আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বেইজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের এই উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘাত প্রশমনে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর