ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ভিজিএফ চাল চুরির প্রতিবাদ করায় দরিদ্র গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৩৯ পিএম

সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় সোহেল মিয়া নামে এক দরিদ্র গ্রাহক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো: ফরিদ মিয়া, তার বড় ছেলে সোহেল মিয়া এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহত দরিদ্র নাগরিক সোহেল মিয়ার বাড়ি বহরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত প্রায় ১৪ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী চাল না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ওঠে, বরাদ্দের চাল বিতরণের আগেই কিছু চাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি দোকান থেকে ৪ থেকে ৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই চালগুলো ভিজিএফ কর্মসূচির চাল, যা বিতরণের আগেই সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় উপস্থিত উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ঘটনাটি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সোহেল মিয়া। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বহরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া তার ছেলে ও গ্রাম পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সোহেল মিয়াকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা ও মাধবপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তুষার পাল এবং মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মামুনসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া বলেন, “চাল পাচারের বিষয়টি আমি ধরিয়ে দিয়েছিলাম। এর ফল হিসেবে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বহরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো: ফরিদ মিয়া বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে শুধু শাসন করা হয়েছে।”

তবে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা সাবানা চৌধুরী বলেন, “আমি ঘটনাটি দেখেছি। এভাবে একজন অসহায় মানুষকে মারধর করা মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহরা ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো: ফরিদ মিয়া বলেন, মনতলা তদন্ত কেন্দ্রের আইসি, কনস্টেবল এবং ট্যাগ অফিসার তুষার পালের সামনে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা তুষার পাল বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব একজন নাগরিককে এভাবে আঘাত করতে পারেন না। ইউনিয়নের একজন নাগরিককে চেয়ারম্যান সাহেব এভাবে মারছে—এটা অবশ্যই অন্যায় কাজ। একদম বাজে হয়েছে। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে সোহেল মিয়াকে মারধর করতে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিজিএফের উপকারভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর