আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সিপাহ নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সিপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কেন্দ্র মিনা সালমান বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলায় বন্দরের বিভিন্ন আবাসন, হ্যাঙ্গার এবং সমাবেশ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময় কুয়েতের ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট ঘাঁটিতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মোহাম্মদ আল-আহমদ ও আলী আল-সালেম নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের সরঞ্জাম, আবাসন ও সমাবেশ কেন্দ্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে। প্রতিদিনের সামরিক কার্যক্রমে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংঘটিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
এর আগে একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানার ফলে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী। তবে বিমানবন্দরের বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আইআরজিসির এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা সেগুলি মোকাবিলা করতে দ্রুত কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।